কোটি টাকার বাঁধ প্রতিরক্ষা ব্যর্থ: ধুনটে ভাঙনে বিলীন ৬০০ মিটার এলাকা
ম
মামুনুর রশিদ: জনতার দৃষ্টি
আপডেট: 1 month ago

ধুনটে থেমে নেই যমুনার ভাঙন: ৩ মাসে নদীগর্ভে ৬০০ মিটার, কোটি টাকার জিওব্যাগও নিস্ফল।
একদিকে সর্বগ্রাসী নদী, অন্যদিকে মানুষের শেষ সম্বল। চোখের সামনে যমুনায় বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে নদীপাড়ের চিত্র। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা ঠিকানা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনাপাড়ের মানুষ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার শহড়াবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় অব্যাহত রয়েছে যমুনার এই ভয়ংকর ভাঙন। এতে করে গত তিন মাসে প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকায় নদী ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলা হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না।
নদীর আগ্রাসনে একের পর এক পাড় ভেঙে পড়ছে। যে উঠানে একসময় শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর থাকত, সেখানে এখন শুধু নদীর ঢেউ। যে জমিতে ফলত সোনালি ফসল, সেটিও আজ চলে গেছে যমুনার গর্ভে। নদীরপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে যমুনা এখন আর শুধু একটি নদী নয়, এটি প্রতিদিন একটু একটু করে সব হারিয়ে ফেলার আতঙ্ক।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঙনে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়েছে। কেউ শেষ সম্বলটুকু নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন, আবার কেউ চোখের সামনে নিজের হাতে গড়া ঘর নদীতে তলিয়ে যেতে দেখছেন।
ভাঙন ঠেকাতে গত তিন মাস ধরে নদীপাড়ে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের চরম অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে জিওব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পাড়ের নতুন নতুন অংশ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর নামমাত্র জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে যমুনার তীর রক্ষায় দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় শহড়াবাড়ি ঘাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, “নদীর ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলে তা ঠেকানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তবে শুধু এ দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এখানে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। যমুনা নদীর ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






